মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ‘আমি একটি কন্যা শিশুর অসহায় বাবা’

Share This Story !

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন এই স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রে। আপনার রাষ্ট্রে আমিও একজন নাগরিক। আমার ১০ মাস বয়সের একটি ফুটফুটে কন্যাশিশু রয়েছে। আমি ওর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন, উৎকণ্ঠা প্রকাশ করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনারও একটি মেয়ে রয়েছে। আপনি জানেন কতটা ভালোবাসা, আদর স্নেহ সন্তানের জন্য। কিন্তু সেই সন্তানের ভবিষ্যৎ জীবন যখন হুমকির মুখে, তখন কিভাবে পিতামাতা ভালো থাকতে পারে? আমার এই কথাগুলোর যথার্থতা আপনি বুঝতে পারবেন যখন গত কয়েক মাসের দৈনিক পত্রিকা পড়ে দেখবে। গত ৩০ জুন দৈনিক প্রথম আলো সহ সকল দৈনিক পত্রিকায় চোখ রাখলেই দেখতে পারবেন ৯ মাসের শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। গক ২৩ মে দৈনিক প্রথম আলো সহ সকল পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী শতবর্ষী নারী ধর্ষিত হয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বর্তমানে এদেশে কথা না বলতে পারা শিশু সহ শতবর্ষী নারীও নিরাপদ নয়। গত ৬ মাসে শিশু সহ ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৭৩১ জন নারী। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৬ জনকে। এ ছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ১২৩ জনকে। জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত যদি এই চিত্র হয়, তবে আমি একটি মায়ের সন্তান হয়ে, একটি মেয়ের স্বামী হয়ে, একটি বোনের ভাই হয়ে এবং একটি কন্যা শিশুর বাবা হয়ে কিভাবে নিশ্চিন্ত থাকবো? আমার মা-বোন-স্ত্রী-কন্যা কেউই নিরাপদ নয় বর্তমান প্রেক্ষাপটে। তবে উন্নয়নের মহা উৎসবে, নারীর অগ্রযাত্রার জয়জয়কার এসব কাদের জন্য? যে দেশে নারীর নিরাপত্তা নেই? যে দেশে নারীর সম্ভ্রমহানি হয় প্রতিনিয়ত।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দৈনিক পত্রিকা গুলোর প্রকাশিত জরিপগুলো পড়লে আপনি শিউরে উঠবেন। ২০১৮ সালে ২২৭ শিশু নিহত, ধর্ষণের শিকার ৩৫৬ জন। বছর শেষে পুরো বছরের তথ্য উপাত্ত পর্যালোচনা করেছেন ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’। (বিবিসি বাংলা) খোদ পুলিশ সদর দফতরের পরিসংখ্যান বলছে, সারা দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমনের মামলা হয়েছে ১ হাজার ১৩৯টি এবং হত্যা মামলা হয়েছে ৩৫১টি। (বাংলাদেশ প্রতিদিন) শিশুদের নিয়ে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের (বিএসএএফ) এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত, অর্থাৎ গত পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৩২২ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। আর ধর্ষণচেষ্টা ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে আরও ৬৩৯ জন শিশু। চাইল্ড পার্লামেন্ট নামক একটি সংস্থা বলছে, গত বছর ৮৭ শতাংশ শিশুই কোনো না কোনো যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। গণপরিবহনেই নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৫৩ শতাংশ। কর্মজীবী ও গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুদের অবস্থা আরও ভয়াবহ। শিশুদের আত্মহত্যা করার প্রবণতা বেড়েছে ৩৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। ২০১৮ সালে ২৯৮ শিশু আত্মহত্যা করে, ২০১৭ সালে এ সংখ্যাটি ছিল ২১৩।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি নিতান্তই এক অসহায় পিতা, ভাই, স্বামী, সন্তান। আমি আমার ঘরের নারীদের নিরাপত্তা চাই, কোনো তনু, খাদিজা, নুসরাত, সায়মা চাই না। আমার মতো কোটি কোটি জনগণ আজ আতংকিত। আমরা এই নির্মমতার অবসান চাই। আমরা আর বিচার চাই বলে রাস্তায় দাঁড়াতে চাইনা। আপনি আপনার মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে একবার তনু নুসরাতদের কথা ভাবুন। দয়াকরে এই মহামারীর হাত থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করুণ। নাদিম হাসান ধামরাই, ঢাকা।

লেখক: নাদিম হাসান। ধামরাই, ঢাকা

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *