কোটা আন্দোলনে সহিংসতার মামলা সচল করা দরকার-সংসদে প্রধানমন্ত্রী!

Share This Story !

কোটা আন্দোলনের সময় ৮ এপ্রিল, ২০১৮ইং রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসায় সহিংসতার বিষয়ে গতকাল রাতে সংসদে দাড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যের এক পর্যায়ে বলেন, ”দুর্ভাগ্য হলো যে কোটা আন্দোলন সাথে সাথে ভিসির বাড়িতে আগুন। তার বেড রুম পর্যন্ত ঢুকে যাওয়া আলমারি ভেংগে যা কিছু সোনাদানা ছিলো লুট করে নিয়ে যাওয়া। এই ধরনের ঘটনা তো আমরা কখনো দেখিনি মাননীয় স্পিকার। মানে এমন ভাবে আগুন দিয়ে গাড়ি পোড়ানো হলো সিসি টিভি টা তুলে নিয়ে যাওয়া হলো। এবং এই যে আক্রমণটা। তবে এটা তদন্ত করে। যেহেতু আশেপাশে অন্যান্য বিল্ডিং এ সি সি টিভি ক্যামেরা ছিলো সেখান থেকে ফুটেজ তৈরী করে এটা কিন্তু মামলা হয়েছে। আমি বলবো যারা এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের ব্যাপারে ব্যাবস্থা নেয়া দরকার। এই মামলাগুলি সচল করে শাস্তি দেয়া দরকার। যেন ভবিষ্যতে আর কেউ কখনো এমন করতে না পারে। কারণ এতো টাকা বলতে গেলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সবাই পয়শা দিয়ে পড়বে। হ্যা আমরা দেশের কথা চিন্তা করি মানুষের কথা চিন্তা করি।আমার নিম্ন বিত্ত মধ্য বিত্ত ছেলেমেয়েরা আসে পড়তে তাদের কথা চিন্তা করেই কিন্ত যত টাকা লাগছে আমরা কিন্ত দিয়ে যাচ্ছি। দিয়ে আমরা পড়াশোনার একটা পরিবেশ আমরা রাখার চেষ্টা করছি। তাই সেভাবে পড়াশোনা করে তারা দেশের জন্য কাজ করুক সেটাই আমরা চাই যেন আমার দেশ আরো উন্নত হয়।”

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে কোটা আন্দোলনকারীরা। ২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল রাতে উপাচার্যের বাসভবনে হামলার ঘটনায় অজ্ঞাত লোকজনকে আসামি করে শাহবাগ থানা পুলিশ তিনটি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি মামলা দায়ের করে। এর মধ্যে একটি মামলা হয় তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় ও অন্য গুলোতে ভাঙচুর, পুলিশের কাজে বাধা দান, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও পুলিশের বিশেষ শাখার একজন কর্মকর্তার মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়।

এই মামলার ফলে একদিকে কোটা আন্দোলনের নির্দোষ নেতাদের নিয়মিত কোর্টে গিয়ে হাজিরা দিতে হচ্ছে। ছাত্রজীবনে মিথ্যা মামলার ঘানি টানতে গিয়ে স্বাভাবিক ছাত্রজীবন ব্যাহত হচ্ছে অন্যদিকে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করতে পাচ্ছে না। একের পর এক তদন্ত প্রতিবেদনে পিছিয়ে দিচ্ছে।

আশাকরি এই বক্তব্যের পরে পুলিশ প্রশাসন নির্দোষ ছাত্রনেতাদের আর হয়রানি না করে দ্রুত প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করবে এবং দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দিবে।

পাশাপাশি যারা দিনে দুপুরে জনসম্মুখে কোটা আন্দোলনকারীদের উপর হামলা চালিয়েছে তাদের ও বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যাবস্থা করা হবে। যেন পবিত্র শিক্ষাঙ্গণে এই ধরনের সহিংস ঘটনা আর কেউ ঘটানোর সাহস না করে।

কোটা আন্দোলনকারীরা তদন্তকারী সকল সংস্থাকে শুরু থেকে স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত কাজে সহযোগিতা করে আসছে এবং প্রয়োজনে প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করতে সকল ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কোটা আন্দোলনকারীরা বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায়।

লেখক: মোঃ বিন ইয়ামীন মোল্লা, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহবায়ক, ছাত্র অধিকার পরিষদ।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *