‘এই ভূত তাড়াবে কে?’

Share This Story !

দেশে সরকার দলীয় শোষণ মহাউৎসব চলছে। এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে দূর্নীতি পৌঁছেনি। শোভন-রাব্বানী প্রতীক মাত্র। সঠিক তদন্তk ও তার প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করাগেলে এই ভয়ঙ্কর চিত্রের আসল বাস্তবতা দেখা সম্ভব।

ডিআইজি মিজানের দূর্নীতির তদন্ত করতে গিয়ে যখন দুদক পরিচালক দূর্নীতিগ্রস্থ হয়ে পড়ে তখন আর বুঝতে বাকি থাকেনা দূর্নীতি কোথায় পৌছেছে। দেশের ভোট ব্যবস্থাকে এতটাই বিতর্কিত করা হয়েছে যে ভোট দেবার আগ্রহ মানুষ হারিয়ে ফেলেছে। ভোট ব্যবস্থাকে প্রথমত বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামিয়ে আনা হয়েছে এরপর বিনাভোট এনে ভোট ব্যবস্থাকে আইসিওতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। সরকার দলীয়করন করতে করতে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে মাছের বাজারের কমিটিতেও সরকার দলীয় নেতাদের থাকতেই হবে। চাদাবাজি ধান্দাবাজির অভাব তো হবারই কথা নয়। শোভন-রাব্বানী যখন বলেন “ন্যায্য পাওনা চেয়েছেন ” তখন এই চাদাবাজির সীমানা নিয়ে প্রশ্ন থাকার কথানা। দল ও প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেউই এখন আর দলের উর্ধ্বে নেই। সকল দিকে একটি দলের নিরঙ্কুশ জয়জয়কারে সবাই সে দলেই ভিড়েছে।

এখনো যারা ভিড়েনি তারাই দেশদ্রোহী, মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধের শক্তি, জামায়াত শিবির এইসকল বিশেষণে ভূষিত হয়েছেন। কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আসা বর্তমান ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরু’কেও যেভাবে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাওয়া হয় সুধুই বশ্যতা শিকার করার জন্য তখন বুঝতে আর বাকি থাকবার কথা নয় যে এদেশে ভিন্নমত থাকবে সরকার তা চায়না। এই ছাত্রলীগের এহেন কোনো কর্মকান্ড নেই যা নিয়ে বিতর্কিত হয়নি।

কলঙ্কিত ডাকসু ডাকসু নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলতে সাহস পাননি ভিসি সাহেব, এর একটি মাত্র কারণ তা হলো ছাত্রলীগ চায়না ভিসি এ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। এবং ভিসি সাহেবেরও সে সৎসাহস নেই যে, ছাত্রলীগের বাইরে গিয়ে তিনি তার অবস্থান ব্যক্ত করবেন। চিরকুট ভিসি হয়ে ছাত্রলীগের ডানহাতের দায়িত্বে থাকা ভিসি সাহেব তবুও সাফাই গেয়ে যেতেন, যদিনা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখন শোভন – রাব্বানী ‘র বিরুদ্ধে অবস্থান না নিতেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি সাহেবান ততক্ষণ পর্যন্ত মুখ খুলতে সাহস করেননি যতক্ষণ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর মন বুঝতে না পেরেছেন। প্রধানমন্ত্রী কোনো কিছু না চাইলে যে এ দেশে বর্তমান সময়ে কিছুই করা সম্ভব নয় এটা জনগণ বুঝে গেছে। ডাকসু নির্বাচন নিয়ে হাজারো প্রশ্ন তুললেও প্রশাসন তাতে কোনো প্রমাণ পাননি। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায় বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই শোভন-রাব্বানী’রা কেমন জালিয়াতি করেছিল নির্বাচনে। তবেকি সুধুই প্রধানমন্ত্রী চায়নি বলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীলরা জালিয়াতির কোনো তথ্য প্রমাণ পাননি ডাকসুর নির্বাচনে? এই কতিপয় মেরুদন্ডহীন শিক্ষকদের উপর দায়িত্ব জাতির মেরুদন্ড তৈরি করবার। এটি সত্যিই জাতির জন্য লজ্জার।

বিভিন্ন গনমাধ্যমের উঠে এসেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থান পেতেই সুধু ৪০ লক্ষ টাকার লেনদেনের অডিও। এটি সুধুই একটি কমিটির চিত্র। বাকিগুলো তদন্ত করলে হয়তো বাস্তবতা আচ করা সম্ভব হবে। ডাকসু ভিপি নুরু বলেছিলেন, বর্তমান সরকার মানুষের মনে সুক্ষ্ম ভয় ঢুকিয়ে দিতে সফল হয়েছে। বাস্তব সত্য সে সুক্ষ্ম ভয় এতটাই প্রবল যে জনগণ প্রতিবাদ করতে ভুলে গেছে। জনগণ যে কোনো মূল্যে বেচে থাকতে চায়। যে কোনো মূল্যে নিরাপদ থাকতে চায়। এ ভয় কাটিয়ে উঠতে না পারলে হয়তো আমরা আবারও ২০০ বৎসরের গোলামির পথে ফিরে যাবো।

-নাদিম হাসান, নাট্যকর্মী।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *