অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো থিয়েটার ‘৫২-এর ৫ম প্রযোজনা ” কালিদাস ” নাটকের উদ্ভোধনী মঞ্চায়ন

Share This Story !

ভাষা ও মত প্রকাশের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হলো নাটক। আর বাঙালির চেতনায় বিশ্বদরবারে ভাষার প্রতি ভালোবাসার অদ্বিতীয় ও অতুলনীয় উদাহরণ ১৯৫২ সাল। আর ভাষার প্রতি ভালোবাসা থেকেই বাংলা নাট্যাঙ্গনে পথ চলতে শুরু করেছিল থিয়েটার ‘৫২। দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মবলিদানকারী সকল শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীর বহিরঙ্গনাদের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তাদের প্রথম প্রযোজনা ছিলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের একটি যুদ্ধ শিশুকে নিয়ে আবর্তিত ঘটনা প্রবাহ নিয়ে নাটক “নননপুরের মেলায় একজন কমলাসুন্দরী আর একটি বাঘ আসে “

নাটকটি রচনায় বদরুজ্জামান আলমগীর, নির্দেশনায় জয়িতা মহলানবীশ। এবার শারদীয় দূর্গা উৎসবে থিয়েটার ‘৫২ -র পঞ্চম প্রযোজনা নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন শ্রী শ্রী বরদেশ্বরী কালি মন্দিরে। এটি নাটকের উদ্বোধনী মঞ্চায়ন। নাটকটির মূল কালিদাস চরিত্রে অভিনয় করেছেন নজরুল ইসলাম সোহাগ। রাজকন্যা বিদ্যাবতী চরিত্রে ছিলেন রুমি প্রভা। দেবী সরস্বতী চরিত্রে হাজির হয়েছিলেন নাটকটির নির্দেশক জয়িতা মহলানবীশ। আরও বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় নৈপুণ্য দেখিয়েছেন আদিব মজলিশ খান, রাসেল খান , এম পারভেজ পলাশ, দিপু আহমেদ প্রেম, রুদ্র রায় অপু। নাটকটি রচনা করেছেন অপূর্ব কুমার কুন্ডু।

এই দ্বাবিংশ শতাব্দীর বুকে দাঁড়িয়ে ‘কালিদাস ‘ এমন এক অনবদ্য কবি যার জীবন সম্পর্কে আমরা কিছুই জ্ঞাত নই। অথচ, তাঁর রচনাগুলো আমাদের এখনও অনুপ্রাণিত করে। তার উল্লেখযোগ্য রচনাবলীগুলির মধ্যে মেঘদুত, কুমার সম্ভবে, অভিজ্ঞান শকুন্তলা, রঘুবংশ – অন্যতম । ‘কালিদাস’ সেই পিছিয়ে পড়া তথাকথিত মূর্খ মানুষটির নাম যিনি বারংবার বাঁধা ও গঞ্জনার সম্মুখীন হলেও থেমে থাকেনি। শত বাঁধায়ও অর্জন করে নিয়েছেন, মহাকালের খাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা নাম ‘মহাকবি কালিদাস’।

মানুষ তাই তপস্যায় জয় করতে পারে তার আরাধ্য। কোন বাঁধাই তার সৃষ্টিশীলতার ধারাকে রুদ্ধ করতে পারে না। মহাকবি ‘কালিদাস’ এই নাটকে তেমনি এক দূর্বিনীত অসাধারণের প্রকাশ্যমান চরিত্রায়ন। খুব শিগ্রই বাংলাদেশ শিল্পকলা সহ সকল নাট্যমঞ্চে দর্শক নাটকটি উপভোগ করতে পারবেন।

নাদিম হাসান, রিপোর্টার

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *