জীবনের প্রতিটি জায়গায় নিজেকে ভালো অবস্থানে রাখার চেষ্টা

Share This Story !

ক্যম্পাস থেকে ক্লাস শেষ করে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে বাসায় যেতে যেতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। ফ্রেস হয়ে হালকা খাবার খেয়ে কিছুটা রেস্ট নেয়ার জন্য বিছানায় শোয়া এরপর আর কি রেস্টের নামে ঘুমিয়ে একদম শেষ আবার কখনও কখনও পড়ার ফাকে কিছুটা ফেসবুক ব্যবহারের নামে শুধু স্ক্রলিং। তার সাথে ইউটিউবকে কি আর ফেলে রাখা যায়? অবশ্যই না, তাই তাকেও কিছুটা ব্যবহারের নামে সিরিজ টক শো আরো কত কি যে আছে, সময় শেষ রাত ১ট-২টা তারপর ঘুম সকলে ঊঠায় বিষয় না হয় নাই বললাম । এভাবেই যায় দিন। জীবন এমন বেহিসেবী হওয়ার সুযোগ কারো জন্য রাখে না। সময়কে কাটালে সময় কেটে নিয়ে যায়। সময়, সম্পর্ক দায়িত্ব এই তিনে প্রতিটা মানুষেরই নিয়মের জীবন।

নিয়মগুলোতে শ্রেণী বৈষম্য আছে ঠিক ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রীয়, শূদ্র, শ্রেণীর মত যাকে বলে প্রাণের পরিচয়ে এক আরেক নিয়মে যাপনে সব ভিন্ন। জীবনের মূল নিয়মকে এরকমই বলা যায়। কেউ ধনিদের নিয়ম ফলো করে নিজেকে অনেক বড় তৈরি করার জন্য (সেভেন হেলদি হ্যাবিটস) আর কেউ সকল নিয়মকে নিয়ে চলার জন্য নাকানিচুবানি খাওয়ার মতো আবার কেউ কেউ তো আছে যারা শুধু মোটিবেশনাল ভিডিও দেখে দেখে নিজেদের প্রতিদিন উন্নতি ঘটাবে বলে চলেছে কিন্তু তারা ঐ ভিডিও থেকে আর বের হয় চলতে পারছেনা এভাবেই তাদের চলে আবার কেউ নিয়মের ব্রান্ড রুলই জানে না। তাদের যখন ব্রান্ড রুল নিয়ে জিজ্ঞেস করা হয় তারা বলে ওহ, ব্রান্ড রুল? মানে প্রার্থনা, ভোরে ঘুৃম থেকে ওঠ, এক্সারসাইজ, সকালে মন দিয়ে পড়, নাস্তায় স্বাস্থ্যকর খাবার, যেকোন পরিস্থিতিতে পজিটিভ থাক, এসব আরকি এখনও এই সময় হয়নি আরো সময় আছে এই বিষয়টা বেশিরভাগ বলে ইয়াং জেনারেশনের আমরা। হেলদি লিভিং ব্রান্ড রুল হলে কি হবে? আম জনতার সাধ্যসীমা, চিন্তা দর্শনে এহ কি আমার রুটিন!! ওসব বড়লোকি ব্যাপার স্যাপার। আরো একটা আছে ব্র্যান্ড লিভিং রুল, “সবসময় ইতিবাচক চিন্তা করা”।

এটাই হচ্ছে জীবনের চলার মূলমন্ত্র। এই একটাই আছে যেটা সব শ্রেনীতেই সম্ভব। মজা বুঝলে কেউ ছাড়বে না। সবাইকে এটাতে কম বেশি ফিট করাতে পারলে জীবনকে কঠিনের মধ্যেও সহজ মনে হবে, জীবন হবে আশাময়। বলার উদ্দেশ্য এই যে, বাহারী সম্পর্কে আবদ্ধ জীবনে অনেকে অনেক সুন্দরভাবে সবদিক সামলে পার করে আবার অনেকে জগাখিচুরি পাকিয়ে ফেলে। স্বাভাবিক সবাইকে দিয়ে হবে না। সবাইকে দিয়ে কমনলি একটা কাজ করানো যায়, উৎসাহিত করা যায়, “সব অবস্থাতে পজিটিভ থাকা”। এই কাজটা যেকোন খেলার মত। শুরু করতে কিছুটা সময় লাগবে, অভ্যস্ত হতে সময় লাগে কিন্তু প্র্যাকটিস মেকস এ্য ম্যান পারফেক্ট এই কথায় বিশ্বাসী হতে হবে। সো, দিনে দিনে চর্চায় চলে আসে। এতটাই ভাল হলো যে, কেউ হয়তো দজ্জালিয় চাহনিতে শান দেওয়া ছুরি নিয়ে দাড়িয়ে আছে আপনাকে এফোঁড়ওফোঁড় করবে বলে আর আপনি হেসে দিয়ে বলছেন, ভালোই হল আমার জন্য ছুরিটা এনেছেন অনেক কাজে লাগবে সাথে একটা সুন্দরকরে ধন্যবাদ দিয়ে দিবে। যেকোন পরিস্থিতিতে নিজে নিজেকে উৎসাহ দিয়ে পজিটিভ থাকতে হয়। পরিস্থিতি পরিস্থিতি সমসময় কারো পক্ষেই পজিটিভ থাকে না। চারপাশের সবাই হয়তো ভালো বলবেনা না কানাগুসা করবে, ভাববে না কিন্তু সেগুলোকে ডিঙ্গিয়ে এভাবেই নিজেকে পজিটিভ হতে হবে।

যা নেই তা আশা করা যায়, যা কেউ দেখছে না সেটা অন্যদেরকে দেখাতে হয়, যা কেউ অনুভব করে তা সে অনুভূতি তাদেরকে শেয়ার করতে হয়, ঐ যে বলে, মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয় আড়ালে তার সূর্য হাসে। সবাই স্বাস্হ্য সচেতন। কেউ নিজে থেকে আর কাউকে ডাক্তার বাধ্য করেছে। এরকম সম্পর্ক সচেতন ডাক্তার ঘরে ঘরে দরকার। অর্থাৎ, প্রতি ঘরে ঘরে পজিটিভ থিংকার দরকার। যে পরিবারে প্যাচালো নিয়মেও সহজ বাঁচার পথ দেখাতে পারে। যে অন্ধকারে আলোর দেখা পায়। যে ডাক্তারের মত অন্য নেতিবাচক জটিল কুটিল চিন্তার মানুষদের এমন করেই পথে নামাতে পারবে। প্রতিটি সময় নিজেকে যখন আপনি পজিটিভ রাখবেন দেখবেন যতই কষ্টে থাকেন না কেন আপনার মুখে হাসি থাকবেই। আর এই হাসিটাই আমদেরকে বাচিয়ে রাখান কয়েকধাপ এগিয়ে নিয়ে যায় । ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন আপনি নিজেকে ভালোবাসুন পাশে থাকা প্রতিটি মানুষকে ভালো রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা রাখুন।

লিখেছেন, মোঃ নাজমুল ইসলাম। ইংরেজি বিভাগ (ঢাকা কলেজ)

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *