মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক কর্তৃক লাঞ্ছিত হানিফ বাংলাদেশী

Share This Story !

আজ ১৫ অক্টোবর, মঙ্গলবার সকালে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ঘুষ দূর্নীতি ও নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে স্বারকলিপি প্রদান করতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় জেলা প্রশাসক সাহেব হানিফ বাংলাদেশিকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এবং পেটানোর নির্দেশ দেন বলে আমাদের জানিয়েছেন হানিফ বাংলাদেশী। এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি এ বিষয়ে স্পষ্টত কোনো কথা বলেননি।

আজকের বিষয়ে হানিফ বাংলাদেশী আমাদের জানান তিনি ডিসি অফিসে ডিসি সাহেব এস এম ফেরদৌস ( জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) সাহেবকে অফিসে না পেয়ে কর্মকর্তাদের হাতে স্বারকলিপি প্রদান করে ফিরে যাবার পথে ডিসি অফিসের নিচে অপেক্ষায় থাকা কিছু ছেলেমেয়ে হানিফ বাংলাদেশিকে জানায় বিআরটিএ অফিসের কিছু কর্মকর্তা তাদের প্রশিক্ষণ দেবার কথা বলে টাকা নিয়ে এখন তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেনা এবং দেখাও করছেনা। এবিষয়ে অভিযোগ জানাতেই তারা ডিসি অফিসে ডিসি সাহেবের জন্য অপেক্ষা করছেন। ইতিমধ্যে ডিসি সাহেব উপস্থিত হলে হানিফ বাংলাদেশী তা ডিসি সাহেবের নিকট উপস্থাপন করলে ডিসি সাহেব ক্ষিপ্ত হয়ে হানিফ বাংলাদেশিকে গালাগালি করতে থাকেন। ডিসি সাহেবের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যকে দিয়ে হানিফ বাংলাদেশিকে কলার ধরে টেনে ডিসি সাহেবের অফিসে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সদর থানার ওসি সাহেবকে ডেকে তাকে পুলিশে দেয়া হয়। সদর থানায় দির্ঘ্যক্ষণ বসিয়ে রেখে অবশেষে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

সমাজ ও রাষ্ট্রে ঘুষ, দুর্নীতি, নৈতিক অবক্ষয়ের প্রতিবাদে এবং প্রতিরোধে হানিফ বাংলাদেশি দেশের ৬৪ জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি শুরু করেন। পাশাপাশি তিনি লিফলেটও বিতরণ ও লাল কার্ড প্রর্দশন করেন। তিনি, নোয়াখালী সদর উপজেলার নিয়াজপুর ইউনিয়নের জাহানাবাদ গ্রামের আবদুল মান্নান রেনু মিয়ার একমাত্র ছেলে মোহাম্মদ হানিফ। দেশের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কাজ করায় বন্ধুরা তাকে ‘হানিফ বাংলাদেশি’ বলে ডাকেন। হানিফ বাংলাদেশি জানান, স্বাধীনতার পর যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এসেছে তারাই ঘুষ, দুর্নীতি ও নৈতিক অবক্ষয়ে নিমজ্জিত ছিল। যা আজ চরম আকার ধারণ করেছে। সমাজ, রাষ্ট্র সর্বত্রই ঘুষ, দুর্নীতি, সামাজিক, মানবিক, পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয় চলছে।

তিনি বলেন, গুজব ছড়িয়ে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। ছোট মেয়েদের ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে। তুচ্ছ ঘটনায় একে অন্যকে কুপিয়ে হত্যা করছে। নারী-শিশু নির্যাতন মহামারী আকার ধারণ করেছে। পরস্পর দোষারোপ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি অবক্ষয়কে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। হানিফ বাংলাদেশি আরও জানান, চলমান দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির অবসান হলে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হলে, প্রতিটি নাগরিক তার দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হলে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলে অবক্ষয় নির্মূল সম্ভব। তিনি জানান, জেলা প্রশাসকরা একটা জেলার সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তারা সুষ্ঠুভাবে দল-মত নির্বিশেষে আইনের শাসন প্রয়োগ করলে সমাজ দুর্নীতিমুক্ত হবে। তাহলে মানুষের মাঝে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা সম্ভব। তাই তিনি দেশের ৬৪ জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

হানিফ বাংলাদেশি ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে গত ১৪ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত প্রায় ১০০৪ কিলোমিটার একক পদযাত্রা করেন। গত ৬ মে নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগের দাবিতে পচা আপেল নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ ছাড়া ভোটাধিকারের দাবিতে সংসদ ভবনের সামনেও অবস্থান নিয়ে।

নাদিম হাসান। রিপোর্টার।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *