উন্নয়নের মহাসড়ক!!

Share This Story !

নাঈম আহসান: আমরা দেখে আসছি, দেশে কোনো ঘটনা ঘটার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হতে থাকে। তারপর উপর মহল থেকে দিশেহারা হয়ে বলা হয়, এই পরিস্থিতির জন্য কারা দায়ী তাদের খুঁজে বের করা হবে! আপনারা দেড় যুগ ক্ষমতায় আছেন কার এমন সাহস আছে আপনাদের উপেক্ষা করে কথা বলার?

এদের জনগণের সামনে আনেন এবং প্রচলিত আইনে শাস্তি প্রদান করুন। তবে সত্যি হলো এটাই যে, এই পরিস্থিতি সৃষ্টির পিছনে অধিকাংশ সময়েই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষমতাসীনদের লোক জড়িত।

কোনো ঘটনা ঘটার পরেই কেন আপনাদের টনক নড়ে?

মানুষ পুড়ে মারা যাওয়ার পর আপনারা জানতে পারেন, এটা অবৈধ ভবন, এখানে কেমিক্যাল রাখা অবৈধ!! আপনাদের নানান বাহানা আর অপরের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দেওয়া অজুহাত খুঁজেন। এর আগে আপনারা, আপনাদের প্রশাসন কি করে? কোন কাজ করে জনগণের ঘামের টাকা পকেটে ঢুকান?

হ্যাঁ আপনারাও কাজ করেন। আপনারা কথিত উন্নয়নের মহাসড়কে বসে গরীবের জন্য রক্তপিপাসু সিন্ডিকেট তৈরী করেন, ভিন্নমত দমন করার জন্য হামলা, মামলা, নির্যাতন করেন। যৌক্তিক আন্দোলনে হাতুরি, জাঙ্গিয়া, হেলমেট, লুঙ্গি বাহিনী আবিষ্কার করেন। এদেশ থেকে কোটি কোটি টাকা পাচার করেন। নির্বাচনের নামে জনগণের টাকায় পিকনিক করেন।

আপনারা উন্নয়নের মহাসড়কে বসে জনগনকে ২০৪১ সালের স্বপ্ন দেখান, আর তিন মাস আগে পরে পেঁয়াজের বাজার কেমন হবে তাই জানেন না। হাইস্যকর! বন্ধ করুন জনগণের সাথে এই ভাওতাবাজি। জনগণ ধরলে পালানোর জায়গা পাবেন না।

উন্নয়ন উন্নয়ন জিকির বন্ধ করে এখনো বলছি এই সিন্ডিকেটদের লাগাম টেনে ধরুন। শুনে রাখুন ক্ষমতাসীনরা, এর লাগাম টেনে না ধরতে পারলে, এই উন্নয়নের মহাসড়কে আপনারা এমন এক্সিডেন্ট করবেন আপনাদের স্থান শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিট বা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল নয় আপনাদের স্থান হবে শাহবাগ জাদুঘরে।

তাই সাধু সাবধান, এরকম দায়িত্বজ্ঞানহীন কথাবার্তা বলে এদেশে আর ৩০ ডিসেম্বরের মতো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। এদেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করবে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ এর মত যুগপোযোগি সংগঠন এবং আপামর জনসাধারণ।

লেখক: নাঈম আহসান, শিক্ষার্থী, বাঙলা কলেজ।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *