“বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয়” প্রতিষ্ঠার দাবিতে মানববন্ধনের ডাক বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীদের

Share This Story !

ছবি: প্রতিকী

বাঙলা কলেজ প্রতিনিধি: বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে বাংলা ভাষার চর্চাকে প্রসারিত করার লক্ষ্যে এবং সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহারের দাবি জানিয়ে আসছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা বলেন, ১৯৫২ সালের ৮ ফাল্গুন (২১শে ফেব্রুয়ারি) বাংলার ভাষার দাবিতে ছাত্র জনতা রাস্তায় নেমেছিলেন। জীবন দিয়েছিলেন ভাষার জন্য।

কিন্তু অত্যন্ত লজ্জার বিষয় হলেও সত্যি ভাষার দাবি পূরণ হলেও মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীকালীন সময়ে এসেও বাংলা ভাষার পরিবর্তে আজকাল দেশের সর্বত্র বিদেশী ভাষার পরিলক্ষিত হচ্ছে।শুদ্ধ বাংলা না পারা মানুষটিও ইংরেজি বলাকে গৌরবের মনে করে। একইসাথে অবহেলিত হচ্ছে বাংলা ভাষা। জাতিসংঘে এ বছর বাংলা ফ্রন্ট চালু হলেও ঘর থেকে বের হলেই দেখা যাচ্ছে বিদেশী শব্দে দেশ সয়লাভ।এছাড়াও রেডিও অনুষ্ঠানগুলোতে বাংলা ভাষার বারোটা বাঁজিয়ে দিচ্ছে। তাই বাংলা ভাষার সর্বোত্তম ব্যবহার জরুরি বলে মনে করছেন সবাই।

দেশে নজরুল চর্চার জন্য কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্রনাথ চর্চার জন্য রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, আরবি চর্চার জন্য ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। অথচ বাঙলা ভাষা জন্য নেই কোন বিশ্ববিদ্যালয়।

ইঞ্জিনিয়ারিং চর্চা ও গবেষণার জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বুয়েট, কুয়েট, রুয়েট চুয়েটসহ আরও বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়।
সেখানে একমাত্র বাংলা একাডেমি ভাষা প্রণয়নে কাজ করে যাচ্ছে কিন্তু পড়াশুনা ও বাংলা ভাষার চর্চা এবং গবেষণা করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা।

বাংলা ভাষাকে বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করতে এবং তার স্বীয় সম্মান বজায় রেখে বাংলা ভাষার গবেষণা চর্চা চালিয়ে যেতে বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি।

তাই বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীরা একটি ` বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয়“প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানাচ্ছে সেটা বাঙলা কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তর কিংবা নতুন করে প্রতিষ্ঠা করে হোক। বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তবে আমাদের দাবি যেহেতু বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে ‘বাঙলা কলেজ’ প্রতিষ্ঠিত; যার লক্ষ্য ছিল বাংলা ভাষার চর্চা বাড়ানো।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় নয় মাস জুড়ে মিরপুরের ঐহিত্যের পারদ বাঙলা কলেজটিতে চলে পাকিস্তানিদের নারকীয় তাণ্ডব। এ কলেজের প্রশাসনিক ভবনের নিচের একাধিক কক্ষকে ব্যবহার করা হতো টর্চার সেল হিসেবে। কলেজের মাঠের ঝোপ-ঝাড়ে ধর্ষণ করা হতো নারীদের। এ ছাড়াও কলেজটিতে রয়েছে একাধিক গণকবর। যা বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ফেরদৌসী খান চিহ্নিত করে- নিয়েছেন সংরক্ষণের দায়িত্ব। তিনি ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন, মুজিব বর্ষে গণকবরগুলোতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করে বাংলাদেশকে উপহার দিবেন।

এ ছাড়াও ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন দীর্ঘ নয়মাস ব্যাপী কলেজটিতে বাঙলা সাইনবোর্ড নামিয়ে উর্দু সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

সে অনুযায়ী আমাদের দাবি একটিই- ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটিকেই ঘোষণা করা হোক ‘বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয়’।

সেই লক্ষ্যে আগামী মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টায় বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানিয়ে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে বাঙলা কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *