করোনা ঝুঁকি জেনেও ঢাকামুখী মানুষের ঢল

Share This Story !

যানবাহন চলাচল বন্ধ জেনেও ঢাকামুখী মানুষের ঢল থেমে নেই। কিছু না পেয়ে পায়ে হেঁটেই রওনা দেন অনেকে। তাঁরা বলছেন, আজ থেকে অফিস খোলা। কাজে যোগ না দিলে চাকরি থাকবে না। তাই বাধ্য হয়েই ছুটছেন তাঁরা। বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমজীবীরা ছোটো ছোটো যানবাহনে করে, পায়ে হেঁটে যে যেভাবে পারছেন ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছেন। ময়মনসিংহ থেকে ঢাকার দিকে দলে দলে যাচ্ছেন গার্মেন্টস কর্মীরা। কিন্তু ঢাকামুখী যানবাহন না পেয়ে চরম বেকায়দায় পড়েছেন তারা। পায়ে হেঁটেই যাচ্ছেন অনেকেই। শ্রমিকরা বলেন, ৫ এপ্রিল থেকে গার্মেন্টস খুলবে। হাজির না হলে বেতন কাটা যাবে। কারো কারো মালিক চাকরিচ্যুতির হুমকি দিয়েছেন। সে কারণে করোনার ভয় নিয়েই কষ্ট করে ঢাকায় যাচ্ছেন তারা।

পুলিশ জানায়, গতকাল শুক্রবার সকাল থেকেই হাজার হাজার মানুষ ঢাকার দিকে যাচ্ছেন। অধিকাংশই যাচ্ছেন হেঁটে। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতারা গার্মেন্টস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত মালিকদের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন। তারা বলছেন, কারখানা খোলা রাখা বা বন্ধের বিষয়ে সরকারের বাধ্যবাধকতা নেই। কারখানাগুলোতে বিদেশি ক্রেতাদের ক্রয়াদেশের পোশাক তৈরি হচ্ছে। কিছু কারখানায় স্বাস্থ্যকর্মীদের পার্সোনাল প্রোটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) ও মাস্ক তৈরির অর্ডার পাওয়া গেছে। এই অর্ডার হাতছাড়া হলে বড়ো বিপর্যয় তৈরি হবে এই সেক্টরে। গতকাল পর্যন্ত দেশের ১ হাজার ৯২টি কারখানায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্ডার বাতিল হয়েছে।

বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হক বলেন, কারখানা পরিচালনা করার জন্য অবশ্যই করোনা ভাইরাসের আক্রমণ থেকে শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের রক্ষা করার জন্য সব স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিধি নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকের সব দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মালিকের থাকবে। কারখানা চালু রাখা বা বন্ধ রাখা যে কোনো অবস্থাতেই কর্মকর্তা- কর্মচারীদের মার্চ মাসের বেতন যথাসময়ে পরিশোধ করতে হবে। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, কেউ চাইলে কারখানা খোলা রাখতে পারবেন। পিপিই ও মাস্ক বানাতে কারখানাগুলো খোলা থাকবে। পাশাপাশি খোলা রাখা কারখানাগুলোতে শ্রমিকের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

রুবানা হক জানান, আমরা ৪ এপ্রিল পর্যন্ত কারখানা বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছিলাম। এর পর থেকে কারখানাগুলো চালু হবে। দেশের নিট গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আমরা নতুন করে ছুটির সময় বাড়াব না। যাদের কাজ আছে, তারা কারখানা খুলবে। তাছাড়া সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে কলকারখানা চলবে। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কিছু ক্রেতা এখনো তাদের সঙ্গে কাজ করতে চান। বাংলাদেশে তৈরি পোশাক কারখানায় পিপিই ও অন্য সুরক্ষা পণ্যের রপ্তানি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *