করোনা পরীক্ষার সংকট ও একটি প্রস্তাব : প্রেক্ষাপট নেত্রকোনা

Share This Story !

করোনা পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যে পিসিআর ল্যাবটি আছে সেটিতে ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলা (ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর, শেরপুর) ও সুনামগঞ্জের কিছু নমুনা (স্যাম্পল) পরীক্ষা করা হয়। কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধানের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, এ মেশিনের সাহায্যে প্রতিবারে মাত্র ৯৪টি করে নমুনা (স্যাম্পল) পরীক্ষা করা যায়। দিনে দুইবারে (১২ ঘণ্টায়) সর্বোচ্চ ১শ ৮৮টি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হয়। কিন্তু ওই পাঁচ জেলা থেকে প্রতিদিন নমুনা সংগ্রহ করা হয় আরও কয়েকগুন বেশি। এ কারণে ল্যাবে নমুনার (স্যাম্পল) জট সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে ল্যাবটিতে ৭শ’র বেশি নমুনা জমা হয়ে আছে। এর মধ্যে শুধু নেত্রকোনা জেলারই নমুনা আছে ৫শ ৭২টি। গত তিনদিন ধরে নেত্রকোনার কোনো নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে না। এ কারণে করোনা রোগী সনাক্তকরণে ব্যাপক সমস্যা দেখা দিয়েছে।
এদিকে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পিসিআর মেশিন দিয়ে ল্যাবের সক্ষমতা বাড়ানোর কথা ছিল। কিন্তু টেকিনিক্যাল কারণে সেটি আজও চালু করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় করোনা পরীক্ষা নিয়ে এ অঞ্চলে লেজেগোবরে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আর এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে নেত্রকোনায়।
জানতে পেরেছি, নেত্রকোনা সদরের অনন্তপুর গ্রামে ডেমিয়েন ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত যক্ষা ও কুষ্ঠ ক্লিনিকে একটি পিসিআর মেশিন রয়েছে। মেশিনটি ব্যবহারযোগ্য। তাই কর্তৃপক্ষ চাইলে এটি দিয়ে নেত্রকোনায় একটি পিসিআর ল্যাব চালু করা সম্ভব। এ জন্য লোকবল এবং রি-এজেন্ট লাগবে- যা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সরবরাহ করতে পারে। নেত্রকোনার সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

তাই এ ব্যাপারে নেত্রকোনার জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আপনারা আপনাদের অবস্থান থেকে একটু তৎপর হলে নেত্রকোনায় একটি পিসিআর ল্যাব চালু করা সম্ভব। এতে করে দ্রত রোগীদের সনাক্ত করা সম্ভব হবে। আর রোগী যত দ্রুত সনাক্ত করা যাবে- ততই আমাদের জন্য মঙ্গল।

সঞ্জয় সরকার, সাংবাদিক- দৈনিক জনকণ্ঠ ও দ্য বিজনেস স্ট্যা

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *