আজ পহেলা মে, শ্রমিক আন্দোলনের ১৩৪ বছরঃ খান শাহরিয়ার ফয়সাল

Share This Story !

০১/০৫/২০২০ইং,(শুক্রবার)।

“এই শহর, এই পথ, এই মাঠ-ঘাট,
কোথা লাগেনি বলো শ্রমিকের হাত।”

যুগে যুগে মানুষ তার অধিকার বাস্তবায়িত করতে জীবন বিলিছে এমন সংগ্রামী ইতিহাসের সংখ্যা কম নয়। যেই অধিকার লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে, তার প্রাপ্তি সফলতা সুমিষ্ট। আদি লগ্ন থেকে আধুনিকতার এই মহা কালেও শ্রমিক তার অধিকার বাস্তবায়ন করতে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। আজ ২০২০ সালে এসেও আমরা বলতে পারিনা শ্রমিক তার অধিকার পুরোপুরি ভাবেই পেয়েছে।কেন এই শ্রমিক আন্দোলন? শ্রমিক চায় তার বাচার মতো সামান্য অধিকার ও কিঞ্চিৎ সুযোগ।

শ্রমিক আন্দোলনের ১৩৪ বছর পেরিয়েও শ্রমিক কাদেঁ খাবারের জন্য। যেই আন্দোলন শুরু হয়েছিলো ১৮৮৬ সালে আজ কি সেই আন্দোলন সফল? বলতে গেলে কোল কালেই মানুষ তার অধিকার ঘরে বসে দিতে হয়েছে বহু রক্ত ঘাম। আসুন জেনে নেই কি ঘটেছিলো সেদিন, আজকের দিনটি কেনইবা এতো তাৎপর্য পূর্ণ। সময়টা তখন, ১৮৮৬ সাল।

আমোরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটের ম্যাসাকার শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে পালিত হয়। সেদিন দৈনিক আটঘন্টার কাজের দাবীতে শ্রমিকরা হে মার্কেটে জমায়েত হয়েছিল। তাদেরকে ঘিরে থাকা পুলিশের প্রতি এক অজ্ঞাতনামার বোমা নিক্ষেপের পর পুলিশ শ্রমিকদের ওপর গুলীবর্ষণ শুরু করে। ফলে প্রায় ১০-১২জন শ্রমিক ও পুলিশ নিহত হয়। ১৮৮৯ সালে ফরাসী বিপ্লবের শতবার্ষিকীতে প্যারিসে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক-এর প্রথম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ১৮৯০ সাল থেকে শিকাগো প্রতিবাদের বার্ষিকী আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন দেশে পালনের প্রস্তাব করেন রেমন্ড লাভিনে। ১৮৯১ সালের আন্তর্জাতিকের দ্বিতীয় কংগ্রেসে এই প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়। এরপরপরই ১৮৯৪ সালের মে দিবসের দাঙ্গার ঘটনা ঘটে। পরে, ১৯০৪ সালে আমস্টারডাম শহরে অনুষ্ঠিত সমাজতন্ত্রীদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এই উপলক্ষ্যে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। প্রস্তাবে দৈনিক আটঘন্টা কাজের সময় নির্ধারণের দাবী আদায়ের জন্য এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্বজুড়ে পয়লা মে তারিখে মিছিল ও শোভাযাত্রা আয়োজনের সকল সমাজবাদী গণতান্ত্রিক দল এবং শ্রমিক সংঘের (ট্রেড ইউনিয়ন) প্রতি আহবান জানানো হয়।

সেই সম্মেলনে “শ্রমিকদের হতাহতের সম্ভাবনা না খাকলে বিশ্বজুড়ে সকল শ্রমিক সংগঠন মে’র ১ তারিখে “বাধ্যতামূলকভাবে কাজ না করার” সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। অনেক দেশে শ্রমজীবী জনতা মে মাসের ১ তারিখকে সরকারি ছুটির দিন হিসাবে পালনের দাবী জানায় এবং অনেক দেশেই এটা কার্যকরী হয়। দীর্ঘদিন ধরে সমাজতান্ত্রিক, কমিউনিষ্ট এবং কিছু উগ্রবাদী সংগঠন তাদের দাবী জানানোর জন্য মে দিবসকে মুখ্য দিন হিসাবে বেছে নেয়। কোন কোন স্থানে শিকাগোর হে মার্কেটের আত্মত্যাগী শ্রমিকদের স্মরণে আগুনও জ্বালানো হয়ে থাকে। পূর্বতন সোভিয়েত রাষ্ট্র, চীন, কিউবাসহ বিশ্বের অনেক দেশেই মে দিবস একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। আমেরিকা ও কানাডাতে অবশ্য সেপ্টেম্বর মাসে শ্রম দিবস পালিত হয়। সেখানকার কেন্দ্রীয় শ্রমিক ইউনিয়ন এবং শ্রমের নাইট এই দিন পালনের উদগাতা। হে মার্কেটের হত্যাকান্ডের পর আমেরিকার তৎকালিন প্রেসিডেন্ট গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড মনে করেছিলেন পয়লা মে তারিখে যে কোন আয়োজন হানাহানিতে পর্যবসিত হতে নাপারে।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *