যশোরের অভয়নগরের বৃদ্ধার করোনামুক্তি এবং ফ্রন্টলাইনে লড়ে যাওয়া একজন চিকিৎসক-যোদ্ধার গল্প!

Share This Story !

মহিব্বুল্লাহিল মাহিদ অভয়নগর প্রতিনিধি স্টার বার্তা

“করোনা”, বিশ্বজুড়ে দ্বিতীয় যুদ্ধের পর হয়তো সবথেকে বিপর্যয়ের নাম।সারা বিশ্ব যখন এই মহামারীতে বিপর্যস্ত,তখন দেরীতে হলেও বাংলাদেশ বাদ যায়নি এর প্রভাব থেকে।মার্চের শুরুর দিকে এটি প্রথম শনাক্ত হবার পর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এর প্রকোপ,একে একে নেওয়া হয় জনবান্ধব বিভিন্ন সচেতনতামূলক ব্যবস্থা।অন্যন্য দেশের মত বাংলাদেশেও খোলা হয় ” করোনা ইউনিট” ও বিভিন্ন জরুরীসেবা।অবস্থা তখন ও সেভাবে ভর করেনি যশোর জেলাতে।কিন্তু দিন গত হতে হতে এক পর্যায়ে যশোর এর ভয়াবহতা বিবেচনাপূর্বক যবিপ্রবি তে ব্যবস্থা করা হয় করোনাভাইরাস এর নমুনা সংগ্রহ ও শনাক্তের ব্যবস্থা।এর ই মাঝে অভয়নগর এ ধরা শনাক্ত হয় করোনাভাইরাস এর প্রথম আবির্ভাব।করোনাভাইরাস এর বিষয়ে ভাষাভাষা ধারণা নিয়ে ই প্রথম শনাক্ত হওয়া ইব্রাহিম(৭০) এসেছিল “অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স” এ।তার পরিবার-পরিজন কিংবা রক্তের বাধনে আবদ্ধ স্বজনরাও যখন তার থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে ব্যস্ত,তখন তার পাশে থেকে প্রথম থেকে নানান প্রতিকূলতা পার করে পাশে ছিলেন ডা. মাহমুদুর রহমান রিজভী এবং তার সহযোগীরা।তাদের অভূতপূর্ব আন্তরিকতা,ভালবাসা আর দায়িত্ববোধ করোনা আক্রান্ত ইব্রাহিম(৭০) কে দেখিয়ে দিয়েছে রক্তের বাধন ছাড়াও আরো একটি তীব্র বাধনে আটকে ফেলতে পারে মানুষকে। আর এরা আর কেউ না,করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেবার পর থেকে ফ্রন্টলাইওনে লড়ে যাওয়া রিজভীদের মত ডাক্তারেরা।তারা হয়তো সন্তানের আবদার রক্ষা করতে পারে নি তাদের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে।কিন্তু জনসাধারণের না বলা আবদার টুকুও স্বদায়িত্বে পূর্ণ করে গেছেন বিনা অজুহাতে।সম্প্রতি ডা.মাহমুদুর রহমান রিজভী তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইব্রাহিমকে নিয়ে একটি স্টাটাস দেন,যাতে ঊঠে আসে তার দায়িত্ব আর মমতাবোধ এর উপমা।স্টাটাসটিতে তিনি বলেন “একজন ইব্রাহীম শেখ ,তিনটা ব্যাগ,একটা লাঠি ও করোনা………

প্রথম দিন যখন চাচাকে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ আনা হয়। ইব্রাহীম শেখ জানতেন না তার কি রোগ তবে সে এটা বুঝতে পারছিলেন তার থেকে সবাইকে দূরে রাখা হচ্ছে ,আর অদ্ভুত জামা পড়া মানুষ ছাড়া কেউ তার কাছে আসছে না।সত্তর উর্দ্ধো জীবনে এরকমটা তার এই প্রথম ,এ হসপিটাল এর প্রতিটা দেয়াল তার পরিচিত তবু যে কেন সে একা একটা ঘরে ।দুদিন পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিভিল সার্জন স্যার এর সহযোগিতায় খুলনায় ডেডিকেটেট করোনা সেন্টার এ রেফার করা হয়।যেদিন এখান থেকে ওনাকে এ্যাম্বুলেন্স এ তুলে দিবো সেদিনই তার তিনটে ব্যাগ দেখতে পেলাম একটায় তার কাথা লুঙ্গী গামছা আর একটায় প্লেট গ্লাস মগ অন্যটায় তার নেবুলাইজার মেশিন আর ওষুধ,এগুলো গুছিয়ে দেওয়ার পর উনি লাঠি হাতে নিয়ে আমাকে বললেন “তুমি কি আমার সাথে যাবা?আমারে কোন জায়গায় পাঠায় দিচ্ছো?তখন তাকে অাশ্বাস দিয়ে বলেছিলাম যেখানে তুমি যাচ্ছো সেখানে তুমি আরও ভাল থাকবা আর তুমি সুস্থ হলে আমি তোমাকে নিতে আসবো।
করোনা শুধু যে রোগ তৈরি করে এটা নয় ।এটা হওয়ার পর বোঝা যায় মানুষ কতটা অসহায়, নিরুপায় ।আজ তাকে আমরা সুস্থ অবস্থায় বাড়ী পৌছিয়ে দিলাম।”
স্টাটাসটি মুহূর্তে ই ভাইরাল হয়ে যায় যোগাযোগ মাধ্যমে।উল্লেখ্য যে তিনি এর পূর্বেও “অভয়নগর ব্লাড ব্যাংক”, ” অভয়নগর ফুড ব্যংক” সহ অভয়নগর এর বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী এবং সামাজিক সংগঠনসহ সাধারণ মানুষের কাছে বেশ কাছের একজন অভিভাবক।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *