বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পোলিও মনিটরিং বোর্ডের সদস্য হলেন প্রথম কোনো বাংলাদেশি ডাক্তার

Share This Story !

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশের অণুজীব বিজ্ঞানী ডা. সেঁজুতি সাহা। সংস্থাটির দ্য পোলিও ট্রানজিশন ইনডিপেনডেন্ট মনিটরিং বোর্ডে (টিআইএমবি) নিয়োগ পেয়েছেন তিনি। সেঁজুতি বর্তমানে বাংলাদেশের শিশু বিষয়ক বেসরকারি গবেষণা সংস্থা চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনে (সিএইচআরএফ) কর্মরত আছেন। 

শুক্রবার (১০ জুলাই) সিএইচআরএফ-এর ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈশ্বিক পোলিও নির্মূল কর্মসূচির (জিপিইআই) এই বোর্ড মূলত পোলিও প্রতিরোধ বিষয়ক পরিকল্পনা প্রক্রিয়ার নির্দেশনা ও পর্যক্ষেণ করে। সেঁজুতি সাহাই প্রথম কোনো বাংলাদেশি হিসেবে এই বোর্ডে স্থান পেলেন।

পোলিও প্রতিরোধ প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি সম্পর্কে ড. সেঁজুতি সাহা অন্য বোর্ড সদস্যদের মতোই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক পর্যায়ে পরামর্শ দেবেন।

একটা দেশ কীভাবে টেকসই রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিশ্চিতে স্বাস্থ্য অবকাঠামো তৈরি করবে, সংক্রামক ব্যাধি সম্পর্কে বিস্তৃত নজরদারি ইত্যাদি বিষয়ে পরামর্শ দেন এই বোর্ডের সদস্যরা। 

এই বোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যান স্যার লিয়াম ডোনাল্ডসন। তিনি যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের জনস্বাস্থ্য বিষয়ের অধ্যাপক। 

এ বছর মোট তিন জন বোর্ড সদস্যকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বাকি দু’জন হলেন যুক্তরাষ্ট্রের অধ্যাপক শীলা লিথারম্যান এবং নাইজেরিয়ার ড. লোলা ডেয়ার। 

সম্প্রতি ঢাকা শিশু হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান ও অণুজীববিজ্ঞানী অধ্যাপক সমীর সাহা এবং তার মেয়ে ড. সেঁজুতি সাহার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস।

গেটস বলেন, তারা সংক্রামক রোগের ভ্যাকসিনের পাশাপাশি তথ্য উপাত্ত ও রোগ নির্ণয়ের অত্যাধুনিক ব্যবস্থাপনা প্রয়োগ করছেন। ভ্যাকসিন নিয়ে তাদের গবেষণার সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশও।

এছাড়া নভেল করোনাভাইরাসের জিনোম সিক্যুয়েন্সও তৈরি করেন বাবা-মেয়ে।

করোনা ছড়িয়ে পড়ার পর গত মে মাসে বাবার সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো করোনা ভাইরাসের জিন–নকশা (জিনোম সিকোয়েন্স) উন্মোচন করে আলোচনায় আসেন সেঁজুতি। তারা বাবা সমীর সাহা চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা শিশু হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *