ভিক্ষাবৃত্তি দূরীকরণে “ছাত্র অধিকার পরিষদ,শাবিপ্রবি” সভাপতির ঝুড়ি-মাটির ব্যাংক বিতরণ!

Share This Story !

মহিব্বুল্লাহিল মাহিদ (প্রতিনিধি): ভিক্ষাবৃত্তি দূরকল্পে শাবিপ্রবি ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মো. রিপন মাহমুদ যশোরের চৌগাছা থানায় বিভিন্ন দোকানে ঝুড়ি এবং মাটির ব্যাংক বিতরণ করেছেন। রিপন মাহমুদ বাস্তবিক জীবনে সদা ই সাধাসিধে জীবন-যাপনে অভ্যস্ত।এটাই তার প্রথম নয়,এর আগেও নানা জনকল্যাণমুখী কাজে তার সক্রিয় ভুমিকা সম্পর্কে আশেপাশের সবাই জ্ঞাত।

এর পূর্বে তিনি স্বদ্যোগে মসজিদ মেরামত,বিনামূল্যে নলকুপ স্থাপন,নিম্নবিত্ত এবং দূর্দশাগ্রস্থ লোকদের বাড়ি মেরামত সহ নানান জনকল্যাণকর কাজ করে আসছেন। রিপন মাহমুদ এর কাছে “মাটির ব্যাংক এবং ঝুড়ি” বিতরণ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন যে,”আজ চৌগাছা উপজেলায় 25 টি দোকানে অসহায়দের জন্য 25 টি ঝুড়ি ও ভিক্ষাবৃত্তি দূর করার জন্য 25 টি মাটির ব্যাংক দিয়েছি । দোকানদার ভিক্ষা না দিয়ে এই ব্যাংকে টাকা রাখবে । মাস শেষে যা হবে তা দিয়ে দোকানী নিজে একজন মানুষকে কাজ দিবেন। একজন দোকানদ্বার প্রতিদিন 50 টাকা ভিক্ষা দিলে মাসে 1500 টাকা হয় যা দিয়ে একজনকে 800 টাকায় চায়ের ফ্লাস্ক ও 200 টাকার চা, চিনি কিনে দিলে তা দিয়ে দিনে চা বেঁচতে পারবে কিংবা কোন মহিলকে 15 টা হাস বা মুরগী কিনে দিন অথবা এমন একজনকে দিন যিনি কাজে লাগাতে পারে ।

ভিক্ষা ইসলামে হারাম । আপনি সুস্থ মানুষ পাচ কিলো হাটলে অসুস্থ হয়ে যাবেন আর ভিক্ষুকরা গ্রামের পর গ্রাম , শহরের পর শহর প্রায় 25-30 কিলো হেটে এসে আপনাকে বলে আমি অসুস্থ। আর আপনি তার দোয়ায় বাড়ি গাড়ি বা পড়াশোনায় ভালো করার জন্য তাকে ভিক্ষা দেন । যদি তাদের দোয়ায় আপনার উন্নতি হয় তবে হে জ্ঞানীরা তোমরা ভিক্ষুকদের বলো তারা ভিক্ষা পেশা বাদ দিয়ে সে যেন নিজের উন্নতির জন্য দোয়া করে ।

এদেশে ভিক্ষা দূর করতেই হবে । আর যেকোন ধর্ম বর্ণের অসহায় মানুষ দোকানের এই ঝুড়ি থেকে তার প্রয়োজনীয় খাবার নিতে পারবে । আবার কোন সামর্থবান যেকোন খাবার গরিবদের জন্য রেখে যেতে পারবে । হযরত মুহাম্মদ (সা ), আবু বকর (রা) , ওমর (রা) এর শাসনামলে ব্যবসায়ীরা অসহায়দের জন্য এভাবে খাবার রেখে দিতেন যাতে ক্রয় ক্ষমতাহীন মানুষ এখান থেকে কিছু নিতে পারে ।

নৈতিকতার নিদর্শন ফিরিয়ে আনার জন্য আজ 25 টি দোকানে অসহায়দের জন্য এই ঝুড়ি রেখে দিয়েছি । আগে পরীক্ষামূলক দুইটি দোকানে ঝুড়ি ও খাবার কিনে দেওয়া হয়েছিলো ।

সবিশেষে তিনি আশা ব্যক্ত করেন যে, ভিক্ষাবৃত্তি দূরকল্পে এমন বাস্তবমুখী পদক্ষেপ এবং ধনী সমাজের এগিয়ে আসার মাধ্যমেই আমরা আমাদের প্রত্যাশিত সোনার বাংলা গড়তে পারব।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *