মালয়েশিয়া প্রবাসীর মরদেহ পাঠানোর খরচ ও আর্থিক সহায়তা দিল প্রবাসী অধিকার পরিষদ

Share This Story !

মালয়েশিয়া প্রতিনিধি:

মালয়েশিয়া প্রবাসী মৃত মো: রহুল আমিনের মরদেহ পাঠানোর খরচ এবং তার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করেছে বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ। মৃত রহুল আমিনের পরিবারকে প্রবাসী অধিকার পরিষদ এর পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা পৌঁছিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, ময়মনসিংহ জেলা কমিটি।

গত ২৬ই আগস্ট মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদের সার্বিক সহযোগিতায় রেমিট্যান্স যোদ্ধার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে এবং বাংলাদেশে শোকাভিভূত পরিবারকে দেওয়া হয়েছে আর্থিক সহযোগিতা।

এটা প্রদর্শন নয়। মানবিক সহায়তা অবশ্যই প্রদর্শনের জিনিস নয়।ব্যক্তিগত সহায়তা হলে এভাবে কখনোই পোস্ট/নিউজ/ছবি/ভিডিও দিয়ে আমরা প্রকাশ করতাম না। গোপনীয়তাই মানবিক কাজের আসল সৌন্দর্য।

কিন্তু, প্রবাসীদের দুঃসময়! খুবই দুঃসময়! বিশ্বের ২ কোটি প্রবাসী অভিভাবক শূন্য। জীবিত থাকা অবস্থায় যেমন নেই কোন অভিভাবক মরে গেলে মরদেহ তার দেশের মাঠিতে পাঠাতেও নেই কোন সরকারী উদ্যোগ।

তাই কেবল ব্যক্তিগত নয়, দলগতভাবে টাকা সংগ্রহ করে এই অবিভাবক শূন্য প্রবাসীর মরদেহ পাঠানো হয়েছে বাংলাদেশে।

গত ২৬ শে আগষ্ট মালেশিয়া প্রবাসী এক ভাই মারা যান, মালেশিয়া প্রবাসী অধিকার পরিষদের তত্ত্বাবধানে লাশ পাঠানো হয় মৃত্যের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার বালিখা বাজার গ্রামে৷ খোঁজ নিয়ে জানা যায় মৃত মোঃ রুহুল আমীন বালিখা বাজারের মোঃ আব্দুল হাই এর ছেলে।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম প্রবাসীর মৃত্যুতে শোক নেমে আসে পুরো পরিবারের মাঝে, এমতাবস্থায় বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ, মালেশিয়া শাখার সহযোগিতায় ও বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, ময়মনসিংহ জেলার ও ফুলপুর- তারাকান্দার নেতাকর্মীদের তত্ত্বাবধানে উক্ত অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো হয় ও নগদ বিশ হাজার টাকা(২০০০০৳) অনুদান প্রদান করা হয়।

অনুদানপ্রদান কালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, ময়মনসিংহ জেলার সংগ্রামী নেতা জাকারুল ইসলাম, তারাকান্দা উপজেলার হুমায়ুন কবির শাওন, মোঃ আনার মন্ডল ও হাবিবুর রহমান মামুন সহ আরও অনেকেই৷

অনুদান পেয়ে নিহতের স্ত্রী, সন্তান ও পিতা-মাতা বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ ও বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদের অনুদানের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন ও ধন্যবাদ জানিয়ে সকলকে বিদায় জানান।

বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ এর প্রধান সমন্বয়ক জনাব মো: কবীর হোসেন জানান, এই মানব সেবা মূলক নিউজ দেয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো: রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসীদের এই দূর্দশার চিত্র দেখে যেন সকল প্রবাসী তার অধিকারের বিষয়ে সচেতন হয়। আর কিছুই নয়, কোনো প্রদর্শনও নয় এটা।

যাঁরা যাঁরা এই মহৎ উদ্যোগকে সফল করার জন্য আর্থিক সহায়তা করছেন, এবং যেই সব সেচ্ছাসেবক ভাইয়েরা সুপার-ম্যানের মতো আমাদের পাশে ছিলেন, বারবার, হাজারবার সালাম জানাই এই মানুষগুলোকে।

এছাড়াও অনেকে এগিয়ে আসতে চেয়েও মহামারি করোনা পরিস্থিতির কারণে চাকরী না থাকায় এগিয়ে আসতে পারেন নি। যাঁরা এগিয়ে এসেছেন অথবা যাঁরা চাকরি না থাকার কারণে এগিয়ে আসতে পারেন নি, সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ আপনাদের পাশে আছে, পাশে থাকবে।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *