প্রাথমিকে কোটা নাই কোটা আছে!

Share This Story !

বিন ইয়ামীন মোল্লা: প্রাথমিকে কোটা নাই কোটা আছে!
আজ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা বাতিলের একটি নির্দেশনা প্রচারিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, কোটা থাকছে না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষকদের পদ ১৩তম গ্রেড ঘোষণা হওয়ায় কোটা তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে নির্ধারিত ৬০ শতাংশ নারী, ২০ শতাংশ পুরুষ এবং ২০ শতাংশ পোষ্য কোটা বহাল থাকছে।


উল্লেখ্য, পূর্বের কোটার নিয়ম অনুসারে, ৬০ শতাংশ নারী, ২০ শতাংশ পুরুষ এবং ২০ শতাংশ পোষ্য কোটা ছিলো যেখানে আবার ,নারী, পোষ্য ও পুরুষ- এই তিন ধরনের কোটা পূরণের ক্ষেত্রে আবার চার ধরনের কোটা অনুসরণ করা হতো এগুলো হলো- এতিমখানা নিবাসী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ৩০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ৫ শতাংশ এবং আনসার ও ভিডিপি সদস্য ১০ শতাংশ।

আমরা জনি যে,পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সরকারি চাকুরীতে কোটা ব্যাবস্থা বিদ্যমান আছে।এটি পজেটিভ ডিসক্রিমিনেশন হিসেবে সমাজের পিছিয়ে পরা অংশকে এগিয়ে নিতেই কোটা দেয়া হয়।
কিন্ত সময়ের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে আজ এতিমখানা নিবাসী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং আনসার ও ভিডিপি সদস্য কোটা বাতিলের ঘোষণা খুবই প্রশংসনীয় উদ্যেগ।


তবে এতিমখানা নিবাসী ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য ৫% কোটা রাখাটা যুক্তিসঙ্গত হতো বলে মনেকরি।সাথে সাথে দেশের আর্থসামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় চাকুরী প্রার্থীদের মতামত অনুযায়ী প্রাইমারীতে ২০% পোষ্য কোটার কোন যুক্তি এখন নেই। এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের একজন এক্টিভিস্ট হিসেবে আমিও এমনটি মনে করি।


বস্তুত, একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বেতন ও সুযোগ সুবিধা তার সন্তানদের প্রতিপালনের জন্য একটি অবলম্বন। কিন্তু যে মানুষগুলোর কোন অবলম্বন নেই তাদের সাথে তুলনা করলে এই ২০% কোটা তাদের সাথে চরম বৈষম্য।

লিখেছেন,
বিন ইয়ামীন মোল্লা
সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *