মরহুম কামাল হোসেনের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিল প্রবাসী অধিকার পরিষদ,ওমান

Share This Story !

স্টারবার্তা প্রতিনিধি: ঢাকার সাভারে ভাকুর্তা ইয়নিয়নের ফিরিঙ্গি কান্দা গ্রামের বাসিন্দা মৃত শুকুর আলীর ছেলে ওমান প্রবাসী কামাল হোসেন গত ৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ২ টায় ওমানে মারা যান।
পরিবারকে এটা নিশ্চিত করেন মরহুম কামাল হোসেনের ওমান প্রবাসী শ্যালক।

উল্লেখ্য, গত ১০ মাস আগে জীবিকার তাগিদে কর্মের উদ্দেশে ওমান প্রবাসে পারি জমান তিনি। কামাল হোসেনের পরিবারের মোট ৪ জন সদস্য আছেন । তার মধ্যে মা জাহানারা বেগম,স্ত্রী হালিমা বেগম,মেয়ে আমেনা আক্তার, ছেলে সালাউদ্দিন ।
এসময় মৃত কামাল হোসেনের সালা ওমান প্রবাসী শোকাহত অবস্থায় উপায়অন্তর না পেয়ে, প্রবাসী অধিকার পরিষদ ওমান শাখা বরাবর সহযোগীতা চান। প্রবাসী অধিকার পরিষদ, ওমান শাখা পূর্ণ্য সহযোগীতার আশ্বাস দেন।

এছাড়াও মরহুম কামাল হোসেনের লাশ দেশে ফেরত আনতে নানা জটিলতা তৈরি হলেও বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ ওমানের নেতৃবৃন্দের তত্বাবধানে তা নিরসন করে মৃত কামাল হোসেনের সালার সমন্বয়ে গত ১৬ ই সেপ্টেম্বর মরহুম কামালের লাশ দেশে প্রেরণ করেন এবং তারই ধারাবাহিকতায় আজ ২০ ই সেপ্টেম্বর প্রবাসী অধিকার পরিষদ, ওমান শাখা ৭৫ হাজার টাকা মৃত কামাল হোসেনের শোকাহত পরিবারের হাতে সহযোগীতা স্বরুপ হস্তান্তর করেন।
প্রবাসী অধিকার পরিষদ প্রধান সমন্বয়ক কবির হোসেনের সার্বিক তত্বাবধানে, প্রবাসী অধিকার পরিষদ, ওমান শাখার সমন্বয়ক টিম এবং এর নেত্রত্বে ছিলেন আরেফিন আরিয়ান এবং মোঃ আল মাসুম ফান্ড গঠন করে দেশে পাঠান।

মুঠোফোনে কথা বললে জানা যায়, বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ, ওমান শাখার প্রতিটা সদস্যের নিরলস প্রচেষ্ঠায় গঠিত হয় আর্থিক ফান্ড, মরহুম কামালের পরিবার খাদ্য সংকটে দিন কাটানোর নিউজ শুনে ঝাপিয়ে পড়ে বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ, ওমান শাখা।


বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ,ওমান শাখার সমন্বয়ক আল মাসুম বলেন, প্রতিটি নিপীড়িত অধিকার বঞ্চিত প্রবাসীদের পাশে থাকবে প্রবাসী অধিকার পরিষদ এবং ওমানের প্রতিটা প্রবাসীর সমস্যা নিরসনে পাশে থাকা প্রতিস্রুতি দেন।

এছাড়াও প্রবাসী অধিকার পরিষদের, ওমান শাখার বিভিন্ন নেত্ববৃন্দদের সাথে কথা বললে তারা জানান, প্রবাসীরা অর্থনীতির চাকা ঘুরাতে দেশ ছেড়ে পাড়ি জমান বিদেশে, পরিবার স্বজন ছেরে বিপুল পরিমান অর্থ পাঠান রেমিট্যান্স যোদ্ধারা। তাদের প্রতি কতটা নজর সরকারের আছে, প্রবাসে একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা মারা গেলে গুনতে হয় বিপুল পরিমান অর্থ নয়তো তাদের শেষ মুখ পরিবারের দেখা হয়না, বিদেশের মাটিতে দাফন করা হয়। তাহলে সরকার রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের কতটা মূল্যায়ন করছেন এটাই প্রবাসীদের প্রশ্ন, অথচ এ সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য একটি মন্ত্রনালয় এবং আর্থিক সেবা দিতে একটি ব্যাংকও রয়েছে তাহলে এদের কাজ কি, তারা কতটা সাপোর্ট দিচ্ছে এটাই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের প্রশ্ন।

টাকা হস্তান্তরের সময় প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ,ঢাকা জেলা উত্তরের সাধারণ সম্পাদক -সাদমান শফিক আহাম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক – শাহআলম অভি , সদস্য- বাদশা আকবর এবং ওমান প্রবাসী অধিকার পরিষদের সমন্বয়ক এইচএম হিজবুল্লাহ হেলালী ও ওমানফেরত হুমায়ুন কবির।

এসময় হিজবুল্লাহ হেলালী বলেন একজন প্রবাসী যখন বিপুল পরিমান অর্থ প্রেরণ করেন তখন তাকে গোল্ডেন বয় এবং নানান নামে ডাকা হয়। অথচ জাতীয় পরিচয় পত্র, পাসপোর্ট ইস্যু, এয়ারপোর্টে হয়রানি সহ নানান কাজে হয়রানির স্বীকার হতে হয় এবং অনাকাঙ্ক্ষিত কোন দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এর কোন সুরহা করেনা, প্রবাসে কেউ মারা গেলে সরকার পক্ষ সাপোর্ট করে না, এটাকে সরকারের প্রবাসীদের প্রতি প্রতারণা বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এজাতীয় সকল সমস্যা সমাধানে সরকারের প্রতি বিনীত আহ্বান জানান।

মরহুম কামাল হোসেনের পরিবার প্রবাসী অধিকার পরিষদের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং প্রবাসীদের জন্য দোয়া করেছেন যেনো দেশ ও জাতির কল্যানে এভাবে কাজ করতে পারেন।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *