সীমান্তে বিচারবহির্ভূত হত্যা করে ভারত মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে

Share This Story !

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হত্যা বন্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৮ সালের এপ্রিলে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয় দুই দেশের মধ্যে। সেখানে সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনায় প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার না করতে একমত হয় দুই দেশ। কিন্তু আমরা এই চুক্তির বাস্তবায় দেখছি না৷ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফ শুধু গুলি করে হত্যা করেই মারছে না, বাংলাদেশীদের ধরে নানা অমানুষিক নির্যাতন করেও হত্যা করেছে৷

বিশ্বের প্রতিটি দেশের সীমান্তের এপার -ওপার মানুষের মাঝে একটা সম্পর্ক থাকে, আত্মীয় স্বজন থাকে৷ ভারত-বাংলাদেশ এই দুই দেশের সীমান্তে অভিন্ন পাড়া আছে। ভারতের বাসিন্দারা বাংলাদেশে যাওয়া-আসা করে আবার বাংলাদেশিরা ভারতে যাওয়া-আসা করে । আত্মীয় তারা শুধু আত্মীয় স্বজনদের সাথে দেখা করা ছাড়াও জীবিকার সন্ধানেও মানুষ সীমান্ত পারাপার হয়ে থাকে। উভয় দেশের বাসিন্দারা যেমনে যাওয়া-আসা করে ঠিক তেমনি কিছু মানুষ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে চোরাকারবারি ও গরুর ব্যবসা করে।

“দু’ দেশেরই আইন অনুযায়ী, এসব মানুষদের গ্রেফতার করে বিচার করার কথা। কিন্তু এরকম আইনানুগ বিচার প্রক্রিয়া দেখি না৷ শুধু ভারতের সীমন্ত রক্ষা বাহিনী বিএসএফের গুলির মত ঘটনাই আমরা প্রত্যক্ষ করি। অন্যান্য বছরের তুলনা এবছর সীমান্ত হত্যা ব্যাপক হারে বাড়ছে৷ ২০১৯ সালে ভারতের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী- বিএসএফ’র হাতে প্রাণ হারিয়েছে ৩৮ জন বাংলাদেশি। এরমধ্যে ৩৩ জন গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে এবং বাকি ৫ জনকে নির্যাতন করে মারা হয়েছে। স্বাধীনতার ৪৯ বছরে ২০২০ সালের প্রথম ৬ মাসেই ২৫ জন এবং সাড়ে ৮ মাস পর্যন্ত সীমান্ত হত্যার সংখ্যা দাড়ায় ৩৯।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সীমান্তে দুই দেশের মানুষের যাতায়াত থাকে, চোরাকারবারীরাও ব্যবসা করে। সেই সব সীমান্তে কি এসব মানুষদের গ্রেফতার না করে, হস্তান্তর না করে ভারতের মত গুলি করে হত্যা করে? সীমান্তে কেউ যদি চোরাকারবারি কিংবা মাদকের সাথে জড়িতে থাকে তাহলে অবশ্যই এক পক্ষকে দোষ দিলে হবে না৷ কারণ একহাতে তালি বাজে না। চোরাকারবারী, মাদক ব্যবসায়ী ভারত-বাংলাদেশের দুই দেশের মানুষই আছে৷ ভারতের চোরাকারবারি বিজিবির গুলিতে নিহত এরকম খবর তো কোনদিন দেখিনি কিংবা বিএসএফের বাংলাদেশের চোরাকারবারিকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে এরকম খবরও কোনদিন শুনি নাই৷ তবে ভারত যদি সত্যিই সীমান্ত হত্যা নিয়ে সহনশীল আচরণ করত তাহলে এরকম সংবাদ আমরা পেতাম৷

কোন অপরাধী যদি সীমান্ত অতিক্রম করে চোরাকারবারি চালায় তাহলে তাদের আটক করা হোক, আটক করে তদন্ত করে খুজে বের করা হোক চোরাকারবারির সাথে কারা কারা জড়িত। চোরাকারবারি বলেন আর নিরীহ মানুষ বলেন তারা তো সীমান্তে বিএসএফের সাথে যুদ্ধ করতে যায় না, তাহলে কেন নিরস্ত্রদের এভাবে গুলি করে পাখি শিকার করবে ভারত৷ বিশ্বের কোন আইনই এরকম ভারতের বিচারবহির্ভূত সীমান্ত হত্যাকে সমর্থন করতে পারে না৷ সীমান্ত ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে বিচারবহির্ভূত হত্যা করে ভারত মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে প্রতিনিয়ত।

ভারতে কঠোরভাবে চাপ প্রয়োগ করে সীমান্ত হত্যা বন্ধ করা করতে বাংলাদেশসরকারের সেই সক্ষমতা নেই । এক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশনগুলো ভারতকে চাপ প্রয়োগ করতে হবে৷

২০১৮ সালে সীমান্ত হত্যা বন্ধে ভারী অস্ত্র ব্যবহার না করা নিয়ে যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়, আমরা সেই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন দেখা যায়নি সীমান্তে। যেসব মানুষ সীমান্ত পারাপার হয় ভারী অস্ত্র ব্যবহার না করে তাদের কীভাবে গ্রেফতার এবং এর পরবর্তীতে কী ব্যবস্থা নেয়া যায় আলোচনার মাধ্যমেই দুদেশের সরকারকেই ঠিক করে একটি চুক্তি করতে হবে এবং সেই চুক্তির বাস্তবায়ন করতে হবে৷

মোঃ সোহরাব হোসেন,
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
যুগ্ম আহ্বায়ক, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *